হজরত ফাতেমা (রাঃ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
হজরত ফাতেমা (রাঃ) ছিলেন মহানবী (সাঃ)-এর আদরের কন্যা। তিনি মুসলিম নারী সমাজের অনুপম উদাহরণ। তার যাপিত জীবন সব মুসলিম নারীর জন্য অনুসরণীয় আদর্শ। মহানবী (সাঃ) তার সম্পর্কে বলেছেন, ফাতেমা জান্নাতী মহিলাগণের সরদার।
---------------------♦♦
উপাধিঃ
-----------------♦
আস- সিদ্দীকা।
-------------অর্থঃ সত্য নিষ্ঠ
আত- ত্বাহিরাঃ
------------- অর্থঃ পবিত্র।
আল- মুবারাকাহ.
-------------অর্থঃ বরকত প্রাপ্ত।
আল- মারজিয়া,
------------------অর্থঃ আল্লাহুর প্রতি সন্তুষ্ট।
বাতুলঃ
------------অর্ঘঃ শ্রেষ্ঠের অতুনীয় আদর্শ
আযঃ যাকিয়াঃ
-------------------- অর্থঃ স্বতি
মুহাদ্দিসাহঃ
------------ অর্থঃ হাদিস বর্ননা কারী
সাইয়িদাতুন নিসায়িল আলামিনঃ
-----------অর্থঃ নারীকুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ
আয- জাহরাঃ
--------------অর্থঃ দ্যুতিময়
খাতুনে জান্নাতঃ
---------------বেহেস্তী নারীদের সরদার।।
-------------------------------♦♦
১১ হিজরির ৩-রা রমজান তারিখে হজরত ফাতেমা (রাঃ) ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র (২৯) বছর। হজরত ফাতেমা (রাঃ) প্রিয় নবী (সাঃ)-এর ইন্তেকালের মাত্র ৬- মাস পর ইন্তেকাল করেন।
---------------------♦♦
হজরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মৃত্যুকালে হজরত ফাতেমা (রাঃ) কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, ‘আমার পরে আমার বংশ থেকে তুমিই সর্বপ্রথম আমার কাছে আসবে (তথা দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে)--(বোখারি শরীফ)
----------------------♦♦
খোদাভীরুতা, আত্মত্যাগ, বাগ্মিতা ও সাহিত্য-প্রতিভাসহ সমস্ত মানবীয় মহৎ গুণে পূর্ণতার অধিকারী এই মহীয়সী নারীর আলোকোজ্জ্বল অস্তিত্ব কেবল নারী জাতি নয় গোটা মানব জাতির জন্যই চিরন্তন গৌরবের উৎস।
-------------------♦♦
অপরিসীম গুণের আধার হজরত ফাতেমা (রাঃ) পূর্ণ বয়সে উপনীত হলে বহু স্বনামধন্য সাহাবি বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু মহানবী (সাঃ) এর চাচাতো ভাই হজরত আলীর সঙ্গে দ্বিতীয় হিজরিতে হজরত ফাতেমার বিয়ে দেন।
------------------♦♦
বিয়ের সময় তার বয়স ছিল ১৫ বছর ৫ মাস। মোবারক এই বিয়েতে মোহর ছিল মাত্র চারশ’ আশি দেরহাম। হজরত আলী (রাঃ) অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন।
----------------♦♦
হজরত ফাতেমা (রাঃ)-এর গর্ভে হজরত হাসান, হজরত হোসাইন ও মহসিন (রাঃ) নামে হজরত আলীর তিন পুত্রসন্তান এবং জয়নাব ও উম্মে কুলসুম নামে দু’টি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করেন।
-------------♦♦
মহসিন (রাঃ.) বাল্যকালেই ইন্তেকাল করেন। হজরত হাসান ও হোসাইন (রাঃ)-এর বংশধররা সৈয়দ নামে পরিচিত ছিল। তাদের জীবনালেখ্য সম্পর্কে কমবেশি সবাই অবগত। হজরত ফাতেমা (রাঃ) কে পিতা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বিয়ের সময় সংসারের জন্য দিয়েছিলেন, একটি চাদর, খেজুর গাছের ছালেভরা একটি বালিশ, একটি চামড়ার গদি, একটি দড়ির খাট, একটি মোশক (চামড়ার তৈরী পাত্র) এবং একটি আটার পিষার চাক্কি।
(তবকাতে ইবনে সাদ)
-----------------♦♦
হজরত ফাতেমাকে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)অত্যন্ত ভালোবাসতেন।
--------------------♦♦
[ রাসুল (সাঃ)বলেছিলেনঃ ]
'''''''''''''''''''''''''''
ফাতেমা আমার একটি টুকরো।
----সে যাতে খুশি হয়,
--------আমিও তাতে খুশি হই।
----------- সে যাতে কষ্ট পায়,
----------------- আমিও তাতে কষ্ট পাই।
-----------♦♦
----------------------নবী (সঃ)-এর ইন্তেকালের সময় হজরত ফাতেমা (রাঃ) ছিলেন আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) একমাত্র জীবিত সন্তান।
আজকের দিনে আমি এই মহিয়সী নারীকে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছি।
-----------------[-আমিন]
Post a Comment